মেনু নির্বাচন করুন

মাইজভান্ডার শরীফ

এ দরবার শরীফ উপমহাদেশের প্রধান আধ্যাত্মিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র এবং এটি কেবল একটি ত্বরীকা বা দর্শন,একটি পারলৌকিক সাধনা কিংবা একটি চেতনার নাম নয় বরং একটি মানবতাবাদী,অসামপ্রদায়িক এবং বিচার সাম্য মূলক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রাম। অসামপ্রদায়িক ঐক্য এবং ইহ ও পারলৌকিক সাধনার মূর্ত প্রতীক। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ এর স’গিত ও প্রাণ পুরুষ ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আযম শাহচুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ও ভ্রাতুস্পুত্র গাউছুল আযম ইউসুফে সানী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) মাইজভান্ডারী দর্শনের পরিপূর্ণ রূপকার হিসেবে এ দরবার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবধরনের গোড়ামী ও মানবতা বিরোধী অশুভ শক্তির বিরুদ্দে একটি সামাজিক,রাজনৈতিক,ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। ভৌগোলিক অবস’ানগত,ভাষাগত ও জাতীয়তার নিরিখে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামূল আম্বিয়া নূরে মোজাচ্ছম রসূলে করীম (দঃ) এর প্রচারিত শানি-র ধর্ম ইসলামের বাণীকে বিশ্ব মানবতার শানি-র জন্য বিবর্তনিক ধারায় তদ্বীয় খলিফা খোলাফায়ে মাইজভান্ডারী আওলাদে রাসূল (দঃ) বা তদ্বীয় উত্তরাধিকারীগণের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রিয়নবী (দঃ) এর বেলায়াত শক্তি বিতরণের মাধ্যমে ত্রাণ কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব (গাউছিয়ত ও কুতুবিয়ত) জারি রেখেছেন। সুক্ষ্মতর ও চূড়ান- বিশ্লেষণে কেবল মানুষ নয়,মহান আল্লাহর সৃষ্টি সকল জীবই বিচার সাম্যের প্রত্যাশী। মাইজভান্ডারী জীবন দর্শনের এ চেতনা একদিকে যেমন মানবতাবাদী মানুষকে করেছে তুমূল আলোড়িত,অন্যদিকে তেমনি মাইজভান্ডারী সঙ্গীতের সূর বিশ্ব সংগীত জগতকে করেছে প্রভাবিত। এ মাইজভান্ডারী দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে শাশ্বত মরমী বাংলার লোক সংস্কৃতির অবয়বে নূতন রঙে নতুন ঢঙে,নতুন সুরে ও রুপে আবির্ভূত রয়েছে বিশ্বের লৌক সংস্কৃতির সুবিশাল চত্বর। মাইজভান্ডার দর্শনে ধর্ম সাম্যের যে বক্তব্য,তার বাসতব প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় মাইজভান্ডারী ত্বরীকার প্রবর্তক শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ)’র কর্ম কান্ডের ভেতরে। তিনি জাতি,ধর্ম,বর্ণ ও গোষ্ঠি নির্বিশেষে স্ব-স্ব ধর্মে থেকে কাজ করার ও আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দিতেন। সমপ্রদায়গত ভেদ বুদ্দির উর্দ্বে তার কর্মকান্ড সকল সমপ্রদায়ের মানুষকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে। এ কারনে দেখা যায় ধীরে ধীরে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ পরিণত হয়ে উঠে সকল ধর্মের মানুষের এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র রুপে। তাছাড়া হযরত কেবলা কাবার খলীফা নির্বাচনের প্রতিফলন সুস্পষ্ট । যেমন-হিন্দু মনমোহন দত্ত,কালাচান সাধ,কবিয়াল রমেশ শীল,বৌদ্ধ ধনঞ্জয় বড়-য়া,খ্রিষ্টান মাইকেল পেনারু প্রমুখকে আধ্যাত্ম অনুক’ল্য প্রাপ্ত সিদ্ধ পুরুষ হিসেবে পরিচিতি দান স’ান ও কালের বিচারে রীতিমত যুগানতকারী ঘটনা মাইজভান্ডারী দর্শনের সমন্বয় ধর্মী,বিশ্বমানবতার মিলন মন্ত্রের যে বীজ রোপন করেছিলেন হযরত গাউছুল আযম মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্‌ মাইজভান্ডারী (কঃ) তার তিরোধানের পর তারই ভ্রাতুস্পুত্র ও নয়নমনি ইউসুফে ছানী হযরত গাউছুল আযম সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) ফলে ফলে সুশোভিত করে বিশ্বব্যাপী পরিপূর্ণ বিকাশের ব্যবস’া করে যথাযথ রূপদান করেছেন। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ পাপী-তাপী,শোষিত,নির্যাতিত,মোহান্ধ,অবহেলিত,রোগাক্রানত,দিশেহারা ও পথহারা নীতিহারা এবং অভাবগ্রস’,দীনহীন মানবতার আশ্রয় স’ল,পদপ্রদর্শক,আল্লাহপাকের সন’ষ্টি অর্জনের উপায ও ধর্ম সাম্যের স’তি গেয়ে আধ্যাত্মিক লৌকিক,পারলৌকিক শানি-র ঠিকানা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এ দরবার শরীফে শায়িত আছেন গাউছুল আযম শাহসূফী হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজান্ডারী (কঃ) গাউসুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ গোামুর রহমান (কঃ) বাবাভান্ডারী। যুগল গাউছুল আযম সহ অসংখ্য আওলাদে রাসূল (দঃ) এর আউলিয়া স’ান হিসেবেও মহিমান্বিত। বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলিম,খৃষ্টান ও ইহুদী সমপ্রদায়ের জন্য তীর্থ স’ান। কিন’মাইজভান্ডার দরবার শরীফ জাতি,ধর্ম,বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত। প্রাণের তাগিদে,ত্রাণের তাগিদে তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফে।

কিভাবে যাওয়া যায়:

চট্টগ্রাম শহর থেকে নাজিরহাট বা খাগড়াছড়ি বাস যোগে ঝংকার নেমে সিএনজি যোগে দরবার শরীফ।


Share with :

Facebook Twitter